সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে মিয়ানমারের স্বর্ণ
ঢাকা প্রতিনিধি : ইয়াবার সঙ্গে এবার স্বর্ণের চালানও বাংলাদেশে ঢুকছে মিয়ানমার থেকে। বাংলাদেশের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে সোনাগুলো দেশের অভ্যন্তরে ঢুকছে। অঞ্চলটিতে দায়িত্বরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা সপ্তাহব্যাপী কয়েকটি অভিযানে কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বারসহ কয়েকজন পাচারকারীকে আটক করেছে।
টেকনাফ-২ বিজিবি সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল শনিবার হোয়াইক্যং বিজিবি সদস্যরা মো. বাবুল নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ৮৫ ভরি ৬ আনা ওজনের ৬টি স্বর্ণের বার জব্দ করে। কিছুদিন আগে যাত্রীবাহী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৯৯ ভরি ১১ আনা ওজনের সাতটি স্বর্ণের বারসহ আব্দুল গনি নামে এক পাচারকারীকে আটক করে বিজিবি। গনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া আফজাল নগর এলাকার বাসিন্দা।
তিনি বর্তমানে টেকনাফ পৌরসভা লামার বাজারে বসবাসরত। হোয়াইক্যং বালুখালীগামী একটি ইজিবাইকে তল্লাশি চালিয়েও ৫৬ ভরি ১৪ আনা ৩ রতি ওজনের চারটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এ সময় আটক করা হয় হোয়াইক্যং উত্তর পাড়ার আব্দুল মজিদের ছেলে মো. শাহ আলমকে (৩১)। তিনি জুতার ভেতরে সোনা বহন করছিলেন।
গত ১ নভেম্বর রাতে উখিয়া উপজেলা সীমান্ত সংলগ্ন ঘুমধুম সীমান্তে বিওপিতে কর্মরত ৩৪ বিজিবির সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া ফালংখালী সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে পাচার হয়ে আসা ৪৭১ ভরি ৯ আনা ৪ রতি ওজনের বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ জব্দ করে। এ সময় এক রোহিঙ্গা স্বর্ণ পাচারকারীকে আটক করে সদস্যরা। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ৩ কোটি ১৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা সমপরিমান বলে জানায় বিজিবি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, মিয়ানমার থেকে স্বর্ণ পাচারে যারা জড়িত তারা আবার আবার মাদক পাচারেও জড়িত। এ ধরনের অপরাধ কর্মে জড়িতরা বেশিরভাগই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বৈধ ব্যবসার আড়ালে মাদক ও স্বর্ণ পাচারে সক্রিয় ভুমিকা পালন করছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, আমিরাবাদ এলাকা থেকে গিয়ে টেকনাফে বসবাসরত একটি সিন্ডিকেট।
টেকনাফ-২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান (পিএসসি) জানান, মাদক কারবারে জড়িত অপরাধীরা ইয়াবা পাচারের পাশাপাশি মিয়ামারমার থেকে পাচার করে স্বর্ণের চালান নিয়ে আসছে। তাদের সেই অপচেষ্টা প্রতিরোধ করার জন্য চেকপোস্ট ও সীমান্তে বিজিবি টহল জোরদার করা হয়েছে। মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালান রোধে বিজিবি সদস্যরা সদা প্রস্তুত রয়েছে।

Post a Comment